বাংলাদেশ সরকার নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছে।
বাংলাদেশ সরকার নিউ ইয়র্ক টাইমসের ‘As Bangladesh Reinvents Itself, Islamist Hard-Liners See an Opening’ শীর্ষক প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছে। মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে সরকারের পক্ষ থেকে এ অবস্থান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পরিস্থিতি একটি একপেশে এবং উদ্বেগজনক চিত্রে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের ধর্মীয় উগ্রবাদের দিকে ধাবিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এই চিত্রায়ন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি অতিরঞ্জিতভাবে প্রদর্শন করে এবং ১৮ কোটি মানুষের পুরো জাতিকে ভুলভাবে কলঙ্কিত করার ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
সরকারের মতে, প্রতিবেদনটি ধর্মীয় উত্তেজনা ও রক্ষণশীল আন্দোলনের কিছু উদাহরণের উপর বেশি ফোকাস করেছে, কিন্তু এটি বাংলাদেশে গত বছরগুলিতে অর্জিত অগ্রগতির বৃহত্তর চিত্র উপেক্ষা করেছে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ নারীর অধিকার এবং অবস্থার উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং সরকার তাদের সুরক্ষা ও কল্যাণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘যুব উৎসব ২০২৫’ এর মতো উদ্যোগে দেশব্যাপী প্রায় ২৭ লক্ষ মেয়ে অংশগ্রহণ করেছে, যা সমাজের উন্নয়নকে প্রতিফলিত করে।
বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ‘উগ্রবাদী শক্তির বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার’ দাবি মিথ্যা বলে উল্লিখিত হয়েছে এবং তার নারীদের ক্ষমতায়নে প্রতিশ্রুতির প্রতি অবিচল থাকাকেও অস্বীকার করা হয়েছে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখ করে সরকার জানিয়েছে, গত সাত মাসে রপ্তানি প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৯ম বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের মতো একটি দেশ ধর্মীয় উগ্রবাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, কিন্তু এটি একমাত্র দেশ নয়। বাংলাদেশ এই সমস্যাগুলোর সমাধানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সামাজিক সংস্কার এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।

Post a Comment