ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে টাকা

 

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর মাইলফলক ছোঁয়ার পর এবার তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ডলারের বাজারে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি—এই দুই প্রধান খাতের শক্তিশালী প্রবাহে মার্কিন ডলারের তুলনায় বাংলাদেশি টাকার মান দৃশ্যমানভাবে বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ১১ মাস পর অর্থনীতিতে এ স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে।

ছবি - সংগৃহীত

টাকার মান বেড়ে দুই টাকার মতো শক্তিশালী

মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে টাকার মান প্রায় দুই টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহের শুরুতে প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য যেখানে ১২২ টাকা ৯০ পয়সা ছিল, সেখানে এখন ব্যাংকগুলো ডলার কিনছে ১২০ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১২১ টাকা ২০ পয়সায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে দেশে ডলারের সরবরাহ গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, যা টাকার মান বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

রেমিট্যান্সের ইতিহাস গড়া প্রবাহ

অর্থনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ২৩.৯১ বিলিয়নের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। এই ইতিবাচক ধারা নতুন অর্থবছরের শুরুতেও অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১২ দিনেই দেশে এসেছে প্রায় ১,০৭১ মিলিয়ন ডলার, যার দৈনিক গড় ৮৯.২৫ মিলিয়ন ডলার।

রপ্তানিও দিচ্ছে শক্তিশালী সহায়তা

শুধু রেমিট্যান্স নয়, রপ্তানি খাতও এই উন্নয়নধারায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮.২৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৮.৫৮ শতাংশ বেশি।

নীতিগত স্থিতিশীলতার ফলাফল

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপ এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর উদ্যোগ জনগণের আস্থা ফেরাতে সহায়ক হয়েছে। প্রিমিয়ার ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী মনে করেন, এমন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ধারাবাহিক রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা বহন করছে।


Post a Comment

Previous Post Next Post

Smartwatchs