সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, তবে বৈষম্যের শঙ্কা বেসরকারি খাতে

 

দেশজুড়ে যখন সাধারণ মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবিকার ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে, তখনই অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পুনর্বিবেচনায় একটি নতুন বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রায় এক দশক পর এমন উদ্যোগ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্বস্তির বার্তা আনলেও, বিশ্লেষকদের মতে, এটি বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য নতুন করে বৈষম্য ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।












বাংলাদেশ সরকারের লোগো

বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে বেতন কমিশনের প্রধান করা হয়েছে। কমিশনকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, “দীর্ঘদিন বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন না আসায় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায় একটি নতুন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।”

২০১৫ সালের পর এই প্রথম নতুন বেতন কমিশন গঠিত হলো। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২২ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক এই কাঠামোর আওতায় রয়েছেন। এদের জন্য বেতন বাড়ানো হলেও বাকি প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি বেসরকারি ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমজীবীদের জন্য কোনো আর্থিক সুরক্ষা নেই—এই বিষয়টিকেই উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “মূল্যস্ফীতির প্রভাব সবাইকেই বহন করতে হচ্ছে। শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ালে বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে যাবে, ফলে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হবে। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবেন বেসরকারি খাতের কর্মীরা, যাদের আয়ের সুযোগ বাড়ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের হাতে অতিরিক্ত ব্যয় করার মতো সামর্থ্য নেই। ফলে এই পদক্ষেপ বৈষম্যই বাড়াবে।”

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ১১.৬৬ শতাংশ, যা চলতি বছরের জুনে কিছুটা কমে ৮.৪৮ শতাংশে নেমেছে। তবে চালসহ বেশিরভাগ খাদ্যপণ্যের দাম এখনো উচ্চই থেকে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সরকারি বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে চাহিদা বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে পণ্যের দামে। অথচ, মহামারি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের ধাক্কায় বেসরকারি ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত।

সামগ্রিকভাবে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ইতিবাচক হলেও সমাজের বৃহত্তর অংশের মাঝে নতুন করে বৈষম্য ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Post a Comment

Previous Post Next Post

Smartwatchs