নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই রমজানে
পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা। পর্যাপ্ত মজুতের কারণে বাজার স্থিতিশীল ও ভোক্তা-বান্ধব থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বর্তমান মৌসুমে আলু, পেঁয়াজ ও অন্যান্য শীতকালীন ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে, যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে। সারাদেশে কাঁচা বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করতে অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বৈঠক করছেন। পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোও বাজার ব্যবস্থাকে ভোক্তাবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
মেঘনা গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার তসলিম শাহরিয়ার জানিয়েছেন, রমজানে ভোজ্যতেল ও চিনির কোনো সংকট হবে না, কারণ পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। দেশে বার্ষিক ভোজ্যতেলের চাহিদা ২০ লাখ টন, যার মধ্যে রমজানে চাহিদা প্রায় তিন লাখ টন পর্যন্ত বেড়ে যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে সয়াবিন উৎপাদিত হয়েছে ১.৭২ লাখ মেট্রিক টন, সূর্যমুখী ২৭,০০০ মেট্রিক টন এবং সরিষা ১৬.৭ লাখ মেট্রিক টন।
সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ, আলু ও খেজুরসহ বিভিন্ন পণ্যের শুল্ক মওকুফ করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার সংকট হ্রাস পাওয়ায় ঋণপত্র (এলসি) খোলাও সহজ হয়েছে।
বাংলাদেশ বাণিজ্য ও শুল্ক কমিশনের (বিটিটিসি) তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ৯৮৯ ডলার, যা প্রতি কেজিতে ১১৬.৭৫ টাকা। পরিশোধিত পাম তেলের দাম প্রতি টন ১,০৭২.৫০ ডলার এবং প্রতি কেজি ১২৬.১৮ টাকা।
বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু জানিয়েছেন, চলতি বছর আলু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে, যা ১.৩০ কোটি টন। কৃষক পর্যায়ে আলুর দাম প্রতি কেজি ১০ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ২০-২৫ টাকা। ডিমের বাজার স্থিতিশীল এবং শীতকালীন সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
৫ ফেব্রুয়ারির খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩.১৭ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ৩.৪২ লাখ টন গম মজুত রয়েছে।

Post a Comment