পুতিনের কাছে ট্রাম্পের আহ্বানেও পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান সত্ত্বেও ইউক্রেনে পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার দুই নেতার মধ্যে এক দীর্ঘ ফোনালাপ হলেও, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধে সম্মতি জানালেও পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হননি পুতিন। খবরটি দিয়েছে বিবিসি ও রয়টার্স।
ট্রাম্প এবং পুতিন ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে ৩০ দিনের পূর্ণ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব রেখেছিলেন। তবে হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়, দীর্ঘ ফোনালাপে দুটি দেশের নেতারা যুদ্ধ বন্ধের ব্যাপারে একমত হলেও, পুতিন কোনো সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির জন্য সম্মত হননি। তবে তিনি ইউক্রেনীয় জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই নেতা শান্তির প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য একটি জ্বালানি এবং অবকাঠামো যুদ্ধবিরতির ওপর একমত হয়েছেন। পরে তারা কৃষ্ণ সাগরে সামুদ্রিক যুদ্ধবিরতি, পূর্ণ যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা করবেন।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে বলেন, রুশ নেতার সঙ্গে তার ফোনালাপ "খুব ভালো এবং ফলপ্রসূ" হয়েছে, এবং শান্তি চুক্তি নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তারা একমত হয়েছেন যে, সমস্ত জ্বালানি ও অবকাঠামোর ওপর তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং পরবর্তীতে একটি পূর্ণ যুদ্ধবিরতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানোর জন্য কাজ করা হবে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের জেদ্দায় ইউক্রেনীয় এবং রুশ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন, ইউক্রেনকে বিদেশি সামরিক সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য বন্ধ করার শর্তে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, ফোনালাপ শেষে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, পুতিন কার্যকরভাবে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে তিনি আরও বিশদ জানতে চান যুদ্ধবিরতির জন্য যে প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তাতে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা পর, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ৪০টিরও বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, এসব হামলায় সুমির একটি হাসপাতাল এবং স্লোভিয়ানস্কে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এদিকে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং পাল্টাপাল্টি হামলার তিন বছর পূর্ণ হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে, জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন যে, ইউক্রেনের প্রায় ৮০% জ্বালানি অবকাঠামো রাশিয়ার বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে।

Post a Comment