নববর্ষের প্রতিশ্রুতি: ড. ইউনূস চান বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ
বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি এ সময় এক নতুন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় ড. ইউনূস বলেন, “সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের বিরল সুযোগ তৈরি করেছে—এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।”
তিনি এবারের নববর্ষকে ‘নতুন বাংলাদেশের প্রথম নববর্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আসুন, আমরা বিগত দিনের গ্লানি, দুঃখ-কষ্ট ও অশুভতা পেছনে ফেলে নতুন প্রত্যয় ও উদ্যম নিয়ে সামনে এগিয়ে চলি। চলুন, একসাথে গড়ে তুলি একটি নতুন বাংলাদেশ।”
ড. ইউনূস নববর্ষকে একটি অঙ্গীকারের দিন হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এবারের পহেলা বৈশাখ হোক বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকারের দিন।
বাঙালির প্রাণের উৎসব হিসেবে পহেলা বৈশাখের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই দিনটি শুধু আনন্দের নয়, সম্প্রীতি ও ঐক্যেরও প্রতীক। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে হবে। এটি নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার এক অনন্য সুযোগ।”
তিনি বাংলা সনের কৃষিভিত্তিক উৎপত্তি এবং ‘ফসলি সন’-এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। বলেন, “আজও দেশের কৃষকরা এই পঞ্জিকা অনুসারে চাষাবাদ করেন। হালখাতা ও বৈশাখী মেলার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ব্যবসায়ীদের ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জীবনের অংশ হয়ে আছে। এসব মেলায় দেখা মেলে শীতল পাটি, মাটির পাত্র, লোকজ খেলনা আর হাতপাখার মতো নানা লোকশিল্পের।”
ড. ইউনূস আরও জানান, এ বছর পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীও আনন্দঘন পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন করেছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সৌন্দর্যকেই তুলে ধরে।
বার্তার শেষাংশে তিনি কামনা করেন, বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ সবার জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, আনন্দ ও আশার নতুন দিগন্ত। নববর্ষের সকল আয়োজন সাফল্যমণ্ডিত হোক—এটাই তাঁর শুভেচ্ছা ও প্রার্থনা।

Post a Comment