গাজা সহায়তা: সারাদেশে প্রতিবাদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মঘট
সোমবার গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী ধর্মঘট পালন করা হয়। এই ধর্মঘটের অংশ হিসেবে বাংলাদেশেও হাজার হাজার শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে। ধর্মঘটটি প্রধানত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, শিক্ষা ও পেশাগত কার্যক্রম বর্জনের মাধ্যমে পালিত হয়। এই ধর্মঘটের পেছনে সরকারের কোনো নির্দেশনা ছিল না।
বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি আগ্রাসনের অবসান এবং ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের পক্ষে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সারাদেশে এই বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশুও অংশ নেয়। বাংলাদেশের সরকার গাজার জনগণের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানায়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গাজার জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ এবং বিবৃতি প্রকাশ করে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভের পর কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সোমবার সকালে, মার্কিন দূতাবাস তার ওয়েবসাইটে ঢাকায় বিক্ষোভের কারণে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, বগুড়া ও অন্যান্য স্থানে বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি পণ্য যেমন কোকা-কোলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে কিছু রেস্তোরাঁ ও দোকানে ভাঙচুর চালায়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের নিজ নিজ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই ধর্মঘটে অংশ নেয়। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে মার্কিন দূতাবাসের কাছে, বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা 'বয়কট ট্রাম্প, সেভ প্যালেস্টাইন' এবং 'ইসরায়েলকে রেড কার্ড দেখাও' স্লোগান দেয়।
চট্টগ্রামে, বন্দর নগরীতে গাজার জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে বেশ কিছু সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কিছু বিক্ষোভকারী, ইসরায়েলি পণ্য রাখার অভিযোগে রেস্তোরাঁ এবং দোকানে ভাঙচুর চালায়। সিলেটে এবং কক্সবাজারেও বিক্ষোভকারীরা কিছু দোকানে ভাঙচুর করে।
বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

Post a Comment