বিএনপি কঠোর অবস্থানে, ফেব্রুয়ারিতেই আন্দোলনে নামছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় নির্বাচনের জন্য কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নতুন কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামতে প্রস্তুত দলটি। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের ছয় মাস পর এবারই প্রথম কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে বিএনপি।
সোমবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং দেশে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত সুষ্ঠু নির্বাচন দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিএনপি চায়, ন্যূনতম সংস্কার শেষে অনতিবিলম্বে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দলের অবস্থান জানানো হবে। নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগে বিএনপির আপত্তি নেই, তবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কেন নতুন দল সৃষ্টি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের জবাব চাওয়া হবে। হাসিনা সরকার পতন আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে সমমনা দল ও জোটগুলোর ঐক্যমত রয়েছে। পাশাপাশি, আগামী জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের পক্ষে জনসমর্থন আরও সুদৃঢ় করতে মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি জোরদার করছে বিএনপি।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জনগণের প্রত্যাশা হলো, চলতি বছর স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে, জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে এবং একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ২০২৫ সালের মধ্যে নির্বাচন চাই, যা একটি যৌক্তিক সময়। সরকার ও নির্বাচন কমিশন আন্তরিক হলে এটি সম্ভব।’
অন্য এক মন্তব্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। শীতবস্ত্র বিতরণ, আন্দোলনে আহতদের পুনর্বাসন এবং মহানগর থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মশালা চলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৬ বছর ধরে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার পতনের জন্য আমরা আন্দোলন করছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে পারলে, বর্তমান সরকার কেন ছয় মাসের মধ্যে তা করতে পারবে না?’
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, দেশে ‘পতিত ফ্যাসিবাদী’ শক্তিগুলো ষড়যন্ত্র করছে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অর্থনৈতিক সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং প্রশাসনিক অস্থিরতার কারণে দেশের অবস্থা উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিএনপি এবং তাদের মিত্রদের মতে, দেশকে স্থিতিশীল করতে একটি নির্বাচিত সরকারের বিকল্প নেই। তারা মনে করে, একটি স্পষ্ট রোডম্যাপের মাধ্যমেই নির্বাচনী সংকটের সমাধান সম্ভব। অন্যথায়, সংকট আরও গভীর হবে।

Post a Comment