সিমিনের ট্রান্সকম গ্রুপ মাফিয়ার মতো আচরণ করছে।
সিমিন রহমান ও ট্রান্সকম গ্রুপকে ঘিরে রহস্যময় মৃত্যু
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের ট্রান্সকম গ্রুপকে ‘মাফিয়া গ্রুপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। গত বুধবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি ট্রান্সকম গ্রুপের নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমানের ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের মৃত্যুর বিচার দাবি করেন। তিনি ওই মৃত্যুকে রহস্যজনক উল্লেখ করে বলেন, আরশাদের মৃত্যু ঘিরে একাধিক প্রশ্নের জন্ম হয়েছে।
সন্দেহজনক পরিস্থিতি
২০২৩ সালের ১৬ জুন সকালে গুলশানের ৩৬ নম্বর সড়কের একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে একা বসবাসরত আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মৃত্যুর মাত্র ১০ দিন আগে তিনি আইনি পরামর্শ নিয়েছিলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি থেকে তাকে ও তার মেঝ বোন শাযরেহ হককে বঞ্চিত করার অভিযোগে মা ও বোন সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়েরের জন্য।
আরশাদ ছিলেন ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের একমাত্র ছেলে। পিতার কষ্টার্জিত সম্পত্তির বড় অংশ তার পাওয়ার কথা থাকলেও, ২০০০ সালে লতিফুর রহমানের মৃত্যুর পর সিমিন ও তাদের মা একটি ‘সমঝোতা চুক্তির’ মাধ্যমে আরশাদকে খুব সামান্য অংশ দেন।
অস্বাভাবিক আচরণ ও রহস্য
আরশাদ যখন আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই ২০২৩ সালের ১১ জুন তার মা তার ও শাযরেহ হকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। এই ঘটনার মাত্র পাঁচ দিন পর আরশাদকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
প্রথমে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন তার মা ও বড় বোন সিমিন রহমান। তবে, তার সবচেয়ে কাছের আত্মীয় মেঝো বোন শাযরেহ হক অনেক পরে গৃহকর্মীদের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। তিনি স্বামীসহ আরশাদের ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখেন, সেখানে ট্রান্সকম ও এসকেএফ গ্রুপের কর্মীরা ভিড় করেছেন।
শাযরেহ দেখেন, তার ভাইয়ের দেহ বিছানায় শোয়ানো, হাত প্রসারিত, শরীর ঠান্ডা, এবং আঙুল ও নখে কালো দাগ রয়েছে—যা স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে। এরপরই পরিস্থিতি আরও রহস্যজনক হয়ে ওঠে।
সিমিন রহমান তখনই নির্দেশ দেন, ১৯৯৮ সালে খুন হওয়া তাদের ছোট বোন শাজনীন তাসনিম রহমানের কবর খুঁড়ে আরশাদকে সেখানে দাফন করার জন্য, যদিও বনানী কবরস্থানে পরিবারের জন্য আগে থেকেই আটটি কবর বরাদ্দ ছিল।
দ্রুত দাফনের তাড়া
আরশাদের মৃত্যু সনদ নিতে তার দেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—এসকেএফ গ্রুপের কর্মীরা পুরো প্রক্রিয়াটি নিজেরা পরিচালনা করতে চায় এবং পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ফিরে যেতে বলে। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত দাফনের জন্য প্রক্রিয়া শেষ করতে চাপ দেয়, কারণ জুমার নামাজের পরই তাকে দাফন করতে হবে।
জুলকারনাইন সায়ের তার পোস্টে এই ঘটনাগুলো তুলে ধরে প্রশ্ন তুলেছেন—এটি কি সত্যিই স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে?

Post a Comment