সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান ,গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হচ্ছে

 সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান ,গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হচ্ছে

গাজাবাসীর জন্য বহুল প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি আজ শুরু

আজ রোববার গাজার জন্য একটি বহুল প্রত্যাশিত দিন। ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আজ সকালের থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এই যুদ্ধবিরতি গাজায় টানা ১৫ মাসের রক্তক্ষয়ের অবসান ঘটাবে। গতকাল শনিবার কাতার, যুক্তরাষ্ট্র এবং মিসরের সহায়তায় মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, যুদ্ধবিরতি আজ গাজার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে কার্যকর হবে। তিনি গাজার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানান।

ইসরায়েলের জোট সরকারও যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন করেছে। গতকাল নেতানিয়াহু সরকারের মন্ত্রিসভায় টানা ছয় ঘণ্টার বৈঠকের পর এই চুক্তি পাস হয়। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আজ স্থানীয় সময় বেলা দুইটার আগে কোনো বন্দী মুক্তি পাবে না।

গাজার দায়িত্ব নেবেন মাহমুদ আব্বাস

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গত শুক্রবার জানিয়েছেন, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার পূর্ণ দায়িত্ব নিতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবর্তন, মৌলিক সেবা প্রদান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্গঠনসহ গাজায় পুরো প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

হামাস, যারা ২০০৭ সাল থেকে গাজার দায়িত্বে রয়েছে, বলেছে যে তারা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গাজার বেসামরিক কার্যক্রমের দায়িত্ব ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দিয়ে দেবে। তবে, ইসরায়েল এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি।

তিন ধাপে কার্যকর যুদ্ধবিরতি

যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হবে। এ সময় হামাস ইসরায়েলের হাতে বন্দী ১৯ বছরের নিচের নারী ও শিশুদের বিনিময়ে ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। এই ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি অংশকে সরানো হবে।

দ্বিতীয় ধাপে, আরও কয়েকটি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পটভূমি: অক্টোবর থেকে রক্তক্ষয়

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, হামাসের এক বিস্ফোরক হামলায় ১,২০০ জনের বেশি ইসরায়েলি নিহত হন এবং দুই শতাধিক মানুষকে গাজায় জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ হামলার জবাবে ইসরায়েল গাজায় ক্রমাগত হামলা চালায়, যা গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের মতে ৪৬,৮৯৯ জন ফিলিস্তিনির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং আহত করেছে ১ লাখের বেশি মানুষকে।

আজকের যুদ্ধবিরতি এই দীর্ঘ রক্তক্ষয় বন্ধ করবে এবং একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছ/

Post a Comment

Previous Post Next Post

Smartwatchs