রপ্তানির বিকল্প পথ সংকুচিত, চাপ বাড়ার আশঙ্কা

 রপ্তানির বিকল্প পথ সংকুচিত, চাপ বাড়ার আশঙ্কা



বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য এতদিন ভারতের কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বিশ্বের ২৩টি দেশে রপ্তানি হতো। ২০১৮ সাল থেকে এই সুবিধা দিলেও ভারত তা গত বুধবার হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে, বিশেষ করে পোশাক শিল্পে, বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে ৬২৪টি প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা ব্যবহার করে রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে ৬০৬টিই ছিল পোশাক কারখানা। এ সময়ে প্রায় ৯৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে কলকাতা বিমানবন্দর দিয়ে। রপ্তানিকারকদের ভাষ্য, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তুলনায় কলকাতা হয়ে রপ্তানি করলে কেজিপ্রতি ৫০ সেন্ট থেকে ১ ডলার পর্যন্ত খরচ কম হতো, পাশাপাশি ঢাকায় জটিলতা এড়ানো যেত।

২০২৪ সালে বেনাপোল হয়ে প্রায় ৪৪ হাজার টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে কলকাতা বিমানবন্দর দিয়ে। এখন এই পণ্য পরিবহনের চাপ পুরোপুরি এসে পড়বে শাহজালালে। গড় হিসেবে ৬০ টন ধারণক্ষমতার উড়োজাহাজে এই পণ্য পরিবহনের জন্য অন্তত ৭৩০টি অতিরিক্ত ফ্লাইট প্রয়োজন হবে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বিমানবন্দরে জট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকেরা।

ভারতের দেওয়া সুবিধায় সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করেছে নারায়ণগঞ্জের প্রতিষ্ঠান ফকির ফ্যাশন, যারা প্রায় ৭ কোটি ডলারের ৫ হাজার টনের কাছাকাছি পণ্য রপ্তানি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ চালানটি গেছে গত সোমবার স্পেনে।

ফকির ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ বলেছেন, এই সংকট মোকাবেলায় শাহজালাল বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং পণ্য পরিবহনের ভাড়া নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।


Post a Comment

Previous Post Next Post

Smartwatchs