সুপ্রিম কোর্টে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের জানাজা সম্পন্ন
সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের নামাজে জানাজা আজ সোমবার (৫ মে ২০২৫) সকাল ১১টায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে অবস্থিত ইনার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় ইমামতি করেন মরহুমের বড় ছেলে ব্যারিস্টার এহসান আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী।
জানাজার আগে ছোট ছেলে ইমরান আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
জানাজায় অংশ নেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি সিনিয়র এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারসহ দেশের খ্যাতনামা আইনজীবী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, মরহুমের পরিবার ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ।
জানাজা শেষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সোমবার দ্বিতীয়ার্ধে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আপিল বিভাগের কার্যক্রম সকাল ১১টা পর্যন্ত এবং হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলেছে, এরপর উভয় বিভাগে বিচারিক কার্যক্রম মুলতবি করা হয়।
প্রধান বিচারপতি এক শোকবার্তায় ব্যারিস্টার রাজ্জাকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং বলেন, “তার মৃত্যুতে দেশের আইন অঙ্গন এক অনন্য মেধাবী ও প্রাজ্ঞ আইনজীবীকে হারাল।” তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানান।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক গত রোববার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১৯৪৯ সালে সিলেটের বিয়ানীবাজারে জন্মগ্রহণকারী আব্দুর রাজ্জাক লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৮৬ সালে দেশে আইন পেশায় যুক্ত হন। তিনি সাংবিধানিক ও ফৌজদারি আইনে একজন প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেশে-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেন।

Post a Comment