*সাইনবোর্ড মিতালী মার্কেট: অব্যবস্থাপনার আড়ালে এক ভয়াবহ লুটপাট*
নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সাইনবোর্ড মিতালী মার্কেট একসময় ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়ে দিচ্ছে, মার্কেটের পেছনের গল্পটা এখন আর কেবল বাণিজ্যিক নয়—বরং তা হয়ে উঠেছে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং লুটপাটের এক অশুভ চিত্র।
কমিটির দায়িত্বে অনীহা, ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ
মার্কেট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কমিটি আজ যেন নিজেদের দায়বদ্ধতা ভুলে বসেছে। দোকান ভাড়া, পরিষেবা, নিরাপত্তা—সব কিছুতেই দেখা যাচ্ছে চরম বিশৃঙ্খলা। দোকানদারদের অভিযোগ, মার্কেটের আয়ের সঠিক হিসাব কখনোই জানানো হয় না। কার কত ভাড়া, কিসে কত আয়—সবই যেন অন্ধকারে। এর সুযোগ নিয়ে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি একের পর এক দোকান বুঝিয়ে না দিয়ে দখল করে নিচ্ছে, কেউ প্রতিবাদ করলেই তার মুখ বন্ধ করতে নানা ভয়ভীতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।
বুঝিয়ে না দিয়ে দোকান লুট – ক্রেতাদের বিভ্রান্তি
এই অনিয়মের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো—মার্কেটের বহু দোকান ‘বুঝিয়ে না দিয়ে’ কৌশলে লুটে নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী দোকানদাররা দিনের পর দিন বসে থাকেন ‘বোর্ড’ বা ‘কমিটির সিগনাল’-এর আশায়, অথচ ভিতরে ভিতরে চলে সম্পূর্ণ ভিন্ন খেলা। যে দোকান এক ব্যবসায়ীর নামে ছিল, রাতারাতি তা হয়ে যাচ্ছে অন্য কারো নিয়ন্ত্রণে—কোনো রকম বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা, যারা এই ভাঙা ভরসার ভিত্তিতে মার্কেটে ব্যবসা করতে এসেছিলেন।নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন দোকান ক্রেতা অত্যন্ত দুঃখের সহিত জানালেন যে, ২০১০ সালে দোকান ক্রয় করে আজ অবধি দোকান বুঝিয়ে দেয় নাই মালিক সমিতি।
দায় কে নেবে?
প্রশ্ন একটাই—এই লুটপাটের শেষ কোথায়? স্থানীয় প্রশাসন, বাজার কমিটি, ব্যবসায়ী ইউনিয়ন—কেউ কি দেখছে না এই অনিয়মের ভয়াবহতা? নাকি এও কোনো ‘চেনা খেলা’, যেখানে সুবিধাভোগীরা সবাই একে অন্যের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন?
সাইনবোর্ড মিতালী মার্কেটের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার উপর।নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন উক্ত মার্কেট এর উপর নজর না দিলে , এই মার্কেট কেবল আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে—কীভাবে স্বপ্ন দেখানো হয়, আবার কীভাবে তা নিঃশব্দে কেড়ে নেওয়া হয়।

Post a Comment