"হঠাৎ করেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেন – এর পেছনে কারণ কী?"

 "হঠাৎ করেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেন – এর পেছনে কারণ কী?"


ট্রাম্পের হঠাৎ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা: কৌশলগত পদক্ষেপ, না আলোচনার টানাপোড়েন?

গত সপ্তাহান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বি-২ বোমারু বিমান পাঠিয়ে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালান, তখন ধারণা করা হচ্ছিল, তিনি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে না জড়িয়ে তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসে মিত্র ইসরায়েলকে সহায়তা করতে চাইছেন। এই হামলায় ব্যবহৃত হয় ‘বাংকার-বিধ্বংসী’ শক্তিশালী বোমা, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়ার উদ্দেশ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

কিন্তু এর কয়েক দিন পর, গতকাল সোমবার ট্রাম্প সবাইকে চমকে দিয়ে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ‘সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হচ্ছে—যা ইঙ্গিত করে, হয়তো এই সামরিক পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা।

তবে এই ঘোষণার পরেও একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনো অস্পষ্ট। বিশেষ করে—এই যুদ্ধবিরতি আদৌ টিকে থাকবে কিনা, কিংবা তা কতটা কার্যকর হবে—সে বিষয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলা ‘ছায়াযুদ্ধ’ সম্প্রতি প্রকাশ্য আকাশযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। গত ১২ দিনে দেশ দুটির মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।

যদিও ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন, তবুও দুই দেশের মধ্যে কী ধরনের সমঝোতা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও পারমাণবিক আলোচনা শুরু করবে কিনা, কিংবা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে—এসব প্রসঙ্গে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় কিছু সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হলেও ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত মূলত অক্ষতই রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা জনাথন প্যানিকফ বলেন, “ইসরায়েল তাদের অনেকটা কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করেছে, অন্যদিকে ইরানও সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ খুঁজছিল।”

Post a Comment

Previous Post Next Post

Smartwatchs