অফিসার-কর্মচারীদের আন্দোলন: এনবিআরে তালা, সেবা কার্যক্রমে বিঘ্ন

 অফিসার-কর্মচারীদের আন্দোলন:

এনবিআরে তালা, সেবা কার্যক্রমে বিঘ্ন

এনবিআরের অচলাবস্থা কাটেনি, আন্দোলনে জটিলতা বেড়েছে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার ঘিরে অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। বরং দিন দিন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধান কার্যালয়ে কলমবিরতি পালন করেন।

দুপুর ১২টার কিছু আগে এনবিআর চত্বরে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেউ ভেতরে ঢুকতে কিংবা বের হতে দেননি। এতে আন্দোলনকারীদের একাংশ ভেতরে আটকে পড়েন, আরেক অংশ প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় এনবিআরের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

নিরাপত্তা বাহিনী বিকেলে আন্দোলনকারীদের ভবন থেকে সরিয়ে দেয় এবং ভাড়া করা চেয়ার ও ম্যাট্রেসও সরিয়ে ফেলা হয়। একই সময়ে সারা দেশের শুল্ক ও কর কার্যালয়গুলোতেও কলমবিরতি পালিত হয়। এতে স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।

আন্দোলনকারীরা এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের অপসারণ ও যৌক্তিক সংস্কার দাবি করছেন। তাঁদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে ভুল তথ্য দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

গতকাল এনবিআরের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ আজ (শুক্রবার) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়। দাবি আদায় না হলে শনিবার থেকে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা আসে। এ ছাড়া সারা দেশের কর্মকর্তাদের নিয়ে ঢাকামুখী ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচিরও ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার বলেন, “এনবিআরের সংস্কার সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে হতে হবে। চেয়ারম্যান অপসারণ ও নিপীড়নমূলক বদলির আদেশ বাতিল না হলে আন্দোলন চলবে।”

অচলাবস্থা নিরসনে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিসিএস (কর) ও বিসিএস (কাস্টমস ও এক্সাইজ) ক্যাডারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আড়াই ঘণ্টার বৈঠক করেন। তবে সেখানে সংস্কার ঐক্য পরিষদের কেউ ছিলেন না।

বৈঠক শেষে উপদেষ্টা বলেন, “সব সিনিয়র অফিসার ও কমিশনাররা এসেছেন। তারা আন্দোলনকারীদের অধিকাংশের ঊর্ধ্বতন। আলাপ ফলপ্রসূ হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আরেকটি সভায় চূড়ান্ত সমাধান হবে।”

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post

Smartwatchs