নির্বাচন ও দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

 


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

tarique rahman 2তারেক রহমান

লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। দীর্ঘ ২৩ বছর পর এই জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো।তারেক রহমান বলেন, “আমরা চাই আগামী নির্বাচনে দেশের প্রায় সাড়ে ১২ কোটি ভোটার যেন সুষ্ঠুভাবে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। কেউ যেন সেই প্রক্রিয়ায় ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন প্রতিহতের ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন প্রায়ই শোনা যায়। তাই দলের নেতাকর্মীদের জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।গত ১৭ বছরে ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া, গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “এই ত্যাগকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। তাই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”

তারেক রহমান দৃঢ়ভাবে বলেন, “আপনারা এমন কিছু করবেন না, যা জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। কারণ সেটি শুধু ব্যক্তির নয়, গোটা দলের ওপর প্রভাব ফেলে। দেশের ৬৪ জেলার প্রতিটি নেতাকর্মীর প্রতি আমার আহ্বান—দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো কাজে জড়াবেন না।”তিনি বলেন, “জনগণের আস্থা অর্জনের একমাত্র উপায় হলো ইতিবাচক আচরণ ও দায়িত্বশীল কর্মসূচি। দলের ভেতরে কেউ যদি এমন কিছু করেন, যা জনভিত্তি দুর্বল করে বা দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে তা রোধ করার দায়িত্ব আপনাদের।”তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল—এখানে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতি থাকা আবশ্যক।”আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নিজের হাতে আইন তুলে না নিয়ে গণতন্ত্রকে মজবুত করতে হবে। প্রশাসন যদি সহযোগিতা চায়, তাহলে নেতাকর্মীদের তা দেওয়া উচিত।”

বিএনপিকে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বড় হওয়ার যেমন গৌরব আছে, তেমনি বড় দায়িত্বও আছে। পরিবারের বড় ছেলের মতো আমাদেরও আত্মত্যাগ, নেতৃত্ব ও সহনশীলতা দেখাতে হবে।”তিনি দলীয় অভ্যন্তরে মতবিনিময় ও ভিন্নমতকে সম্মান করার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন এবং বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ।”রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়া বিএনপির কারণে বিলম্বিত হচ্ছে—এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “সংবিধান ও রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের জন্য বিএনপিই প্রথম প্রস্তাব দিয়েছিল এবং ঐকমত্যের স্বার্থে আমরা বড় ধরনের ছাড় দিয়েছি। তবে তার মানে এই নয় যে, সব বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে।”বুধবার লন্ডনে থেকে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে দূর সংযোগ মাধ্যমে (ভার্চুয়ালি) যুক্ত হয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। দীর্ঘ ২৩ বছর পর পটুয়াখালী জেলা বিএনপির এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা চাই এই বার্তা সবার কাছে পৌঁছাক যে, আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১২ কোটি ভোটার যেন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। এর বিরুদ্ধে কেউ যেন ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সেজন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ভালো কাজ ও ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের নির্দেশ দেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমাদের কোনো সহকর্মী কেন এমন কিছু করবে যা দলের ক্ষতি করতে পারে? যদি দেখেন আপনার কোনো সহকর্মী দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বা জনগণের আস্থা কমাচ্ছে, তবে তা হতে না দেওয়া আপনার দায়িত্ব।’

দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের সদস্য বা নেতা হিসেবে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া বা আশ্রয় দেওয়া যাবে না।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষায় সহযোগিতা চাইলে বিএনপি নেতাকর্মীদের অবশ্যই সহায়তা করতে হবে।’

দলের বিশালতাকে পরিবারের বড় ছেলের দায়িত্বের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘সবাই বলে বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। কিন্তু পরিবারের বড় ছেলের মতো, সবচেয়ে বড় হওয়ার কিছু সমস্যাও আছে। এর সঙ্গে আসে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ, বৃহত্তর দায়িত্ব এবং ত্যাগের মানসিকতা।’

দলের মধ্যে ভিন্নমতকে সম্মান জানানোর এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপরও জোর দেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়া বিএনপির কারণে বিলম্বিত হচ্ছে—এমন দাবিকে তিনি বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপিই প্রথম নির্বাচনী সংস্কার ও রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের প্রস্তাব দিয়েছিল। ঐকমত্য তৈরির প্রক্রিয়ায় বিএনপি বড় ধরনের ছাড়ও দিয়েছে। গণতন্ত্রের স্বার্থে অনেক বিষয়ে দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও আমরা ত্যাগ স্বীকার করেছি, যাতে সবাই মিলে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, বিএনপি সব বিষয়েই ছাড় দেবে।’

Post a Comment

Previous Post Next Post

Smartwatchs