কারিগরি শিক্ষাকে স্কুলপর্যায়ে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাসহ পুরো শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হবে।

রবিবার (৩ আগস্ট) ঢাকার শাহবাগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়’-এর প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রদল আয়োজিত এক সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করতে চায়। স্কুল স্তর থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আমাদের তরুণরা ভবিষ্যতে চাকরি খোঁজার বদলে চাকরি দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করে।”
তিনি জানান, বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা ইতোমধ্যে শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
সমাবেশে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান'-এর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “সে সময় ছাত্রদলের শত শত কর্মী হতাহত হয়েছিলেন। শুধু ছাত্রদল থেকেই প্রায় ২ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “যেই সংগঠনে এমন সাহসী সন্তানরা আছেন, সেই সংগঠনকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।”
তারেক রহমানের বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, বিএনপি এখন আর সংঘাতমুখী রাজনীতি চায় না। বরং দলটি রাজনৈতিক সংস্কার ও ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে।
“বাংলাদেশের মানুষ আর প্রতিশোধের রাজনীতি চায় না,” বলেন তিনি। “জনগণ চায় গুণগত পরিবর্তন—সেটাই এখন বিএনপির লক্ষ্য।”
তিনি বিশ্বাস করেন, এই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে ছাত্র ও তরুণ সমাজ।
“এই দেশে পরিবর্তন আসবেই, এবং ছাত্রসমাজ সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে থাকবে। আমাদের ইতিহাসের সকল বড় আন্দোলনে তারুণ্যই ছিল চালিকাশক্তি—এখনও তাই হবে। ছাত্রদলের প্রতিটি কর্মী হবে জনগণের প্রতিনিধি, অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ।”
তারেক রহমানের এই বক্তব্যে বিএনপির রাজনীতিতে একটি নতুন ধারা ও প্রজন্মনির্ভর পরিকল্পনার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।
Post a Comment