শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে পরিচালনা কমিটির ক্ষমতা সীমিত হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণে আসছে এনটিআরসিএ

 

দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে পরিচালনা কমিটির ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এখন থেকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশের ভিত্তিতে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।












বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ

দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিচ্ছে। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় মানহানির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল। এ অবস্থায় অভিভাবক ও শিক্ষক মহল থেকে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে নিয়োগের দাবি উঠছিল।

এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ একটি কমিটি গঠন করেছে। গত বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির নেতৃত্বে আছেন মাধ্যমিক অনুবিভাগ-২-এর অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান। ৭-৮ সদস্যের এ কমিটিতে বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে নতুন সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগ থাকছে।

মো. মিজানুর রহমান জানান, কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির। তিনি বলেন, “বর্তমানে যেভাবে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হয়, একইভাবে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদেরও নিয়োগ দেওয়া হলে স্বজনপ্রীতি বা অবৈধ প্রভাবের সুযোগ থাকবে না। এতে যোগ্য ব্যক্তিরাই নেতৃত্বে আসবেন।”

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলুও সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “পরিচালনা কমিটি যেভাবে টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের নিয়োগ দিচ্ছিল, সেই দুর্নীতির অবসান ঘটবে। আমরা বহুদিন ধরেই এ দাবিতে সোচ্চার ছিলাম।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ প্রক্রিয়া কার্যকর হলে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কিংবা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি দেখা দেওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post

Smartwatchs