চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নানা জল্পনা-কল্পনার প্রেক্ষাপটে আজ বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একটি প্রতিনিধিদল। ইউএনবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, “সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, বৈঠকটি যমুনাস্থ সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত হবে।
উক্ত বৈঠকের পর ড. ইউনূস জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপি নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, “রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে যে ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে, তা নিরসনের উদ্দেশ্যেই এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছি। আমরা চাই না যে এই মুহূর্তে প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করুন, কারণ এতে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।”
তিনি জানান, বৈঠকের পরদিন ইউনূসের কাছে বিএনপি তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানে একটি সুস্পষ্ট ও সময়বদ্ধ রূপরেখা ঘোষণার আহ্বান জানাবে।
এর আগে সকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে বলেন, “আমরা সোমবার থেকেই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়ে আসছি, তবে এখনো সময় নির্ধারিত হয়নি।” তিনি পরিষ্কার করেন যে, বিএনপি ড. ইউনূসের পদত্যাগ দাবি করেনি, বরং কয়েকজন বিতর্কিত উপদেষ্টার অপসারণ চেয়েছে।
“আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে একটি জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা চেয়েছি। ইউনূস যদি রূপরেখা না দিয়ে পদত্যাগ করতে চান, সেটা তার সিদ্ধান্ত। তবে আমরা তা প্রত্যাশা করি না,” বলেন সালাহউদ্দিন।
গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকারের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে হলে নতুন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ কিছু বিতর্কিত উপদেষ্টাকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিক্ষোভ এবং বুধবার সেনাপ্রধানের নির্বাচন-সংক্রান্ত মন্তব্যে হতাশ হয়ে ড. ইউনূস পদত্যাগের কথা চিন্তা করছিলেন বলেও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

Post a Comment