ইসরায়েলের পতন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। একইসঙ্গে ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে এই যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে মুসলিম দেশগুলোর সামরিক বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (২০ জুন) জুমার নামাজের পর রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এই আহ্বান জানানো হয়। ফিলিস্তিন ও ইরানে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করে সংগঠনটি।
জুমার নামাজ শেষে বিপ্লবী পরিষদের নেতাকর্মীরা ‘তাকবির’ ধ্বনি দিয়ে বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিক্ষোভে সাধারণ মুসল্লিরাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচি শেষে একটি মিছিল বের হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন। বক্তব্য দেন যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, "ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে চলেছে। আমরা জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানাই—ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "প্রথম কিবলা বাইতুল মুকাদ্দাস ইহুদি রাষ্ট্রের দখলে রেখে মুসলমানদের পক্ষে শান্তিতে ঘুমানো সম্ভব নয়। আর যে আমেরিকা ইসরায়েলকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করছে, সেখান থেকেই মুসলিম দেশগুলো বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনছে—এটা লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়।"
যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব বলেন, "ইরানে হামলা করে ইসরায়েল আসলে গোটা মুসলিম বিশ্ব দখলে নিতে চায়। তাদের লক্ষ্য মক্কা ও মদিনার পবিত্র ভূমি। অন্যদিকে ভারতকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকেও দখলের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।"
বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ বলেন, "ইরানে ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে যখন ইরান পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, তখনই পশ্চিমা পরাশক্তিরা নগ্নভাবে ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেয়। আমরা জি-৭ এবং যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানাই।"

Post a Comment