মধ্যপ্রাচ্যে আবারও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো একাধিক বিমান হামলার পর। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এই হামলার জেরে লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালী এবং এডেন উপসাগর এলাকায় মার্কিন-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে 'সর্বোচ্চ ঝুঁকির' মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানিয়েছে যৌথ সামুদ্রিক তথ্য কেন্দ্র (জেএমআইসি)।
রবিবার দেওয়া এক জরুরি সতর্কবার্তায় জেএমআইসি জানায়, মার্কিন হামলার পর এই অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এবং মার্কিন মালিকানাধীন বা পরিচালিত জাহাজগুলো এখন হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
এর আগে এক ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান পারমাণবিক স্থাপনায় সফল বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। হামলায় বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান থেকে ছয়টি বাংকার-ধ্বংসকারী বোমা এবং সাবমেরিন থেকে ডজনখানেক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়, তবে তারা মার্কিন বাণিজ্যিক ও যুদ্ধজাহাজে হামলা চালাবে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, "আমরা আমাদের প্রতিরোধ চালিয়ে যাব এবং মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।"
জেএমআইসি সতর্কবার্তায় আরও উল্লেখ করে, হুথিদের লোহিত সাগরে অতীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর ইতিহাস রয়েছে এবং তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থে আঘাত হানার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে।
এখানে ‘মার্কিন-সংশ্লিষ্ট’ জাহাজ বলতে বোঝানো হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী, মার্কিন মালিকানাধীন, পরিচালিত, চার্টারকৃত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য পরিবহনকারী যেকোনো বাণিজ্যিক জাহাজ।
জেএমআইসি জানায়, আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এই কৌশলগত জলপথগুলোতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন জাহাজগুলোকে বাড়তি সতর্কতা নিতে এবং সম্ভব হলে বিকল্প রুট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কবিহীন অন্যান্য জাহাজের জন্য ঝুঁকির মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও, তাদেরও সতর্ক থাকতে এবং যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO)-কে জানাতে বলা হয়েছে।

Post a Comment