কারফিউয়ে অচল গোপালগঞ্জ, থমথমে শহরজুড়ে আতঙ্ক

 

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার পর বুধবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টা থেকে গোপালগঞ্জ শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। কারফিউ জারির পর শহরজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে ও আতঙ্কগ্রস্ত পরিবেশ।

রাত ৮টা থেকে কারফিউ জারি হলে গোপালগঞ্জ শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সন্ধ্যার পর থেকে পুরো শহর কার্যত অচল। দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাঘাট ফাঁকা, জনসমাগম নেই বললেই চলে। দু-একজন পথচারীকেও দেখা গেছে আতঙ্ক নিয়ে বাড়ির পথে ছুটতে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবির যৌথ টহল দল।

পুলিশ জানিয়েছে, দিনভর সংঘর্ষে তাদের অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। যদিও পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে, তবে হামলাকারীরা এখনও শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে সক্রিয় বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

দিনভর চলা সহিংসতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং হতাহতের ঘটনায় শহরটি রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুপুরে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেও তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে কারফিউ ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসন।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, কারফিউ বলবৎ থাকবে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

প্রসঙ্গত, এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার থেকেই গোপালগঞ্জে উত্তেজনা ছড়ায়। বুধবার সকাল থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। দুপুরে এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায় নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা, যারা 'জয়বাংলা' স্লোগান দিয়ে হামলা শুরু করে।

সমাবেশ শেষে মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা দিলে শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় ফের এনসিপির গাড়িবহরে হামলা হয়। এরপর নেতারা আশ্রয় নেন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে, যেখান থেকে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান ব্যবহার করে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এদিনের সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন নিহত ও অনেকেই আহত হয়েছেন। পুরো গোপালগঞ্জজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতঙ্ক।

Post a Comment

Previous Post Next Post

Smartwatchs