সংস্কার ও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য কাটছেই না। রোববার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র বৈঠকেও সেই বিভেদ স্পষ্ট হয়েছে। তবে প্রধান উপদেষ্টা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন—আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন হবে, এর বাইরে কোনো বিকল্প নেই।
আলোচনার অন্য বিষয়
বৈঠকে উঠে আসে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকের ওপর হামলার ঘটনাও। তিন দলই একে নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। জামায়াত ও এনসিপি জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়, যদিও বিএনপি এই প্রসঙ্গে কিছু বলেনি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বৈঠক শেষে জানান, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে—এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।
বিএনপি যা বলেছে
বিএনপি চায় নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হোক। দলটি বলেছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো বৈধ ও সাংবিধানিক উপায় থাকলে তারা সেটি মেনে নেবে। বৈঠক শেষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, একটি মহল নির্বাচন বিলম্বিত করতে চাইছে, তবে এতে সফল হবে না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে।
জামায়াতের প্রশ্ন
জামায়াতে ইসলামীও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে একমত হলেও আশঙ্কা জানিয়েছে—দেশ কি একটি ‘নীলনকশার নির্বাচনের’ দিকে যাচ্ছে? তাদের দাবি, নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন, সনদ নিয়ে গণভোট এবং সংসদে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে ভোট আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এনসিপির দাবি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, তারা চায় আসন্ন নির্বাচন হোক ‘গণপরিষদ’ নির্বাচন।


Post a Comment